শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার অভিযোগে
শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার অভিযোগে
মোঃ আকতারু জ্জামান
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস ও প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মহাদেব চন্দ্র রায়, তিনি বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে কর্মরত।
গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশনের জন্য ছবি তুলতে বিদ্যালয়ে যায়। সেদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও বিশেষ ক্লাস চলছিল। ছবি তুলতে দেরি হওয়ায় তারা চলমান বিশেষ ক্লাসে উপস্থিত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমে শিক্ষার্থীদের কিছু সময় শ্রেণিকক্ষের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং পরে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। এরপর তাদের বিশেষ ক্লাস বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয় এবং একই সঙ্গে তার কাছেই প্রাইভেট পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাইভেট না পড়লে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, “স্যার আমাদের দেরিতে আসার কারণ জানতে চান এবং পরদিন থেকে তাড়াতাড়ি আসতে বলেন। পরে বলেন, প্রাইভেট তার কাছেই পড়তে হবে। অন্য কোথাও পড়লে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় কী হয় দেখা যাবে—মার্ক কেটে দেওয়া হবে।”
ওই শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, রমজানের ছুটির মধ্যেও বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্লাস চলছিল। তার ছেলে রেজিস্ট্রেশনের ছবি তুলতে গিয়ে দেরি হওয়ায় ক্লাসে বসতে চাইলে শিক্ষক প্রথমে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। পরে ক্লাসে ঢুকতে দিলেও প্রাইভেট তার কাছেই পড়তে হবে বলে চাপ দেন। প্রাইভেট না পড়লে নম্বর কম দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মহাদেব চন্দ্র রায় বলেন, “আমি কাউকে প্রাইভেট পড়ার জন্য কিছু বলিনি। সেদিন অতিরিক্ত ক্লাস নিচ্ছিলাম। তারা এলে আমি বলি, একটু অপেক্ষা করে পরে ক্লাসে ঢুকতে। আমি জানতাম তারা ছবি তুলতে এসেছে। অতিরিক্ত ক্লাসের বিষয়টি আগেই শিক্ষার্থীদের জানানো ছিল। প্রাইভেট নিয়ে কোনো কথা হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-এর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স